নারীবাদী ছিনাল লেখিকা

5 মতামত পাওয়া গেছে

নবযুগের আগমণের জন্য চমৎকার মাল-মসলার জোগান দিচ্ছে নবযুগ ব্লগ।

দাউদ হায়দার মধ্যযুগীয় সমাজে বসবাস না করলেও তাঁর আচরণ মধ্যযুগী আঁতেল দের মতন, বাঙালীরা সাইবার জগতে কতটা এগিয়ে আছেন তা তিনি হয়ত অনুধাবন করতে পারেননি, কারণ তিনি নিজে এই সামাজিক যোগাযোগ জগৎ এর বাসিন্দা নন, তাঁর নিজের কোনো সামাজিক একাউন্ট ও নেই, তিনি যাকে উদ্দেশ্য করেই লিখুন না কেনো তা আধুনিক প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচার হয়েছে, সেটা শুধু ভাষা ব্যবহারে নয় মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও নিচু মানের, কারণ তাঁর কবিতার ভাষা “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা ভাবছে, ছিনালদলে আমি কী কুলীন?” এই বাক্যটি যদি কবিতার ভাষা হয় তাহলে ধরে নেবো যে সমস্ত নারীবাদীরা ‘ছিনাল’? সারা দেশে যখন ধর্ষক দের বিরুদ্ধাচরণ করে প্রগতিশীল মানুষ ফুঁসেউঠেছে তখন দাউদ হায়দারের ভাষা “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা ভাবছে, ছিনালদলে আমি কী কুলীন” আর যাইহোক কবিতা হতে পারেনা।
এখানে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, প্রথমত কোন এক নারী কবির সাফল্যকে নিজের ইনফেরিয়োরিটি কমপ্লেক্স এ ভুগে, ছিনাল বলে অশ্লীল ভাবে পর্নোগ্রাফী রচনা করেছেন যা তার প্রতিটা শব্দে হিংসার সাথে আরো ফুটে উঠেছে যৌন হতাশা। দ্বিতিয়ত পুরুষতন্ত্র এর ঝান্ডা ধারী এই মানুষটি কি কদর্য শব্দ ব্যবহার করে পুরো নারীজাতি কে অপমান করেছে যা পড়লে ঘৃনায় বমন বেরিয়ে আসে, আর তৃতীয়ত ধর্ষককুল কে সমর্থন করে শরীর গরম আঁতেলদের মতো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পর্ন কবিতা রচনা করেছেন দাউদ হায়দার।
সবশেষে আমার আর একটি পর্যবেক্ষণ, দাউদ হায়দার কে আমি ৩০ বছর ধরে চিনি, তিনি কবিতা লেখেন, আবৃত্তি ও করেন কিন্তু সামাজিক অনুষ্ঠান গুলোতে কখনো কোনো ইস্যুতে চিন্তাশীল আলোচনা করতে দেখিনি, তিনি এখনো হাতে লিখে কবিতা পাঠান প্রকাশক দেরকে অর্থাৎ অফলাইন জগতের মানুষ হঠাৎ করে অনলাইন জগতে সেলিব্রেটি হবার শুরুর ভাষাটা “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা ভাবছে, ছিনালদলে আমি কী কুলীন” মন্দ নয় বটে। পর্ণ কবিতা লিখেই যদি সেলিব্রেটি হওয়া যেত তাহলে সব পর্ণস্টাররাই সেলিব্রেটি হতো।

আরো একটি কথা না বললেই নয়, দাউদ হায়দার কি এবার এই প্রৌঢ় বয়েসে তাহলে কি বৌলবাদীদের দলেই ভিড়ছেন? “ছিনাল” তো তাদেরই ভাষা, ৭৩ রে আর ৯৩ রে তো বৌলবাসীরাই তাঁকে ও তাসলিমা নাসরিন কে দেশ ছাড়ার আন্দোলনে ওই শব্দই ব্যবহার করেছে ।

    আপনার মন্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায় কবি দাউদ হায়দারের সাথে আপনার ব্যক্তিগত কোনো রেশারেশি বা ঈর্ষার কারণ আছে। বর্ণিত কবিতার চেয়ে ব্যক্তি দাউদ হায়দারকে নিয়ে আপনার লেখার প্রতি আগ্রহ বেশি। আপনার মন্তব্যখানি পাঠ করার পরে আপনার লেখা খুঁজে সেসব পড়ে আপনাকে জানার চেষ্টা করলাম। আপনি নিজে একটা লাইনও তো লিখতে জানেন না, অপরের লেখার সমালোচনা করেন কোন যুক্তিতে? বাংলা কবিতা সম্পর্কে আপনার সম্যক জ্ঞান থাকলে অবশ্যই জানা থাকা উচিত ইতিপূর্বে বাংলা ভাষায় অজস্র কবিতায় স্ল্যাং ব্যবহার করা হয়েছে। আর যে শব্দ-বাক্য নিয়ে এতো হৈচৈ সেই ‘ছিনাল’ শব্দটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনমানুষের নিত্যদিনের ভাষা। এই ভাষাটা শহুরে লোকদের কাছে স্ল্যাং হতে পারে, কন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ছিনাল কোন অশ্লীল শব্দ নয়। একই শব্দ যদি ইংরেজিতে ‘স্লাট’ ‘হোর’ ‘হুকার’ ব্যবহার করা হতো তাহলে সেটাকে আপনি অশ্লীল দাবি করতে পারতেন? একজন লেখক-শিল্পী তার শিল্পে কি উপাদান ব্যবহার করবেন সেটা আপনি আমি নির্ধারণ করে দেয়ার এখতিয়ার রাখি না। আর পৃথিবীর যতো বড় লেখক-কবি-শিল্পীই হোক না কেন, তাদের সব লেখাই যে মানোত্তীর্ণ হবে এমনটা আশা করাও মূর্খতা। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনান্দর সব লেখা কি মানোত্তীর্ণ হয়েছে বলতে পারবেন? এটা সম্ভব না। সে বিবেচনায় এই কবিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে এটা কবিতা হয়েছে কিনা, এর বাক্যরীতি-গঠনরীতি সনেট ঠিকমতো হয়েছে কিনা ইত্যাদি। সেটার সমালোচনা করাই যায়। কিন্তু একজন বয়স্ক লোক হয়ে (যেহেতু আপনি উল্লেখ করেছেন আপনি বর্ণিত কবিকে ৩০ বছর ধরে চিনেন, সেহেতু আপনার বয়স কমকরে হলেও ৫০ হবার কথা) এমন অর্বাচীনের মতো মন্তব্য আপনার মস্তিস্কের অন্তসারশূন্যতাই প্রমাণ করে। একজন লেখককে আপনি যখন পৌঢ় হিসেবে ট্রিট করেন তখন বাধ্য হয়ে বলতেই হয় আপনি নিজেকে জোয়ান প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করলেও আদতে আপনি সেকেলে অচল এক অথর্ব বৃদ্ধ। আপনারই বরং অনলাইন থেকে অবসর নেয়া উচিত।

দাউদ হায়দারকে অনেক শ্রদ্ধা করতাম, কিন্তু উনার এই লেখাটা পড়ে অবাক হয়েছি। এই লেখাটিকে আমি কবিতা হিসেবে মনে করি না। এটা লেখকের সাথে তসলিমা নাসরিনের বিরোধের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। ক্রোধ ও ঘৃণা জানানোর অনেক উপায় আছে, কবি দাউদ হায়দার সেসব উপায়কে অবলম্বন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিম্নরূচির নিম্নশ্রেণির ভাষা ব্যবহার করে তাঁর মানসিক অবস্থার চিত্র স্পষ্টীকরণ করেছেন। ব্যক্তি তসলিমার সাথে অনেকেরই ঝামেলা ও বিরোধ রয়েছে এটা কমবেশি সকলেই জানে। এই ঝামেলাগুলোর একটা সমাধান দরকার সবার স্বার্থেই, কিন্তু কেউই সমাধানে এগিয়ে আসছেন না। নারী-পুরুষ যৌথভাবে আমরা এই সমাজকে বিনির্মাণ করতে চাই, সেখানে কোন ;বাদী’ বা ‘বাদী বিরোধীতা’ ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। কবি দাউদ হায়দারকে অনুরোধ করবো আপনি আপনার এই লেখাটি সংশোধন করে দুঃখপ্রকাশ করুন। এতে আপনার সম্মান উজ্জ্বল হবে বৈ ম্লান হবে না।

পাঠকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যেই লেখককে ইমেইল করে জানানো হয়েছে। এবং ব্লগের পক্ষ থেকে লেখককে মডারেশনের আওতায় নেয়া হয়েছে। লেখকের জবাব প্রাপ্তির পরে বিতর্কিত এই লেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।


আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।